শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দূর্গাপূজা পালনের আহ্বান সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র

১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। ২৫ সেপ্টেম্বর রোববার শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ৫ অক্টোবর দশমী তিথিতে প্রতিমা নিরঞ্জনের মাধ্যমে শেষ হবে দুর্গাপূজা। শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় এ দুর্গোৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। বৃহত্তর এ উৎসবে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানায় সংগঠনটি।

আজ ২৫ সেপ্টেম্বর দেওয়া ও বিবৃতিতে বলা হয়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হতে যাচ্ছে। সর্ব বাঙালির কাছে এই উৎসর্ব চিরায়ত ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এক অনুপম প্রীতিময় আনন্দ উৎসব। অতীত থেকেই দুর্গাপূজা উৎসর্বাকারে পালিত হয়ে আসছে সবার সম্মিলিত প্রয়াসে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ। যাতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই ভূমিতে নিজ নিজ ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারেন। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বুকের রক্ত ঢেলে দেয়। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা পবিত্র সংবিধানে ‘ধর্মনিরপেক্ষতাকে অতীব গুরুত্ব সহ সন্নিবেশিত করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে অসাম্প্রদায়ীক চেতনার সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত।

বিবৃতিদাতারা বলেন- আসন্ন দুর্গাপূজায় কোনো অঘটন যাতে না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রাণিত সম্প্রীতি বাংলাদেশ। কেবল সরকার, প্রশাসন বা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী নয়, এগিয়ে আসতে হবে শুভবোধ সম্পন্ন বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী সকল নাগরিককে। নিজ নিজ এলাকায় গড়ে তুলতে হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত সাধারণ জনগণের সবল ঐক্য। ধর্মান্ধ, উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে আধুনিক মনস্ক সংস্কারমুক্ত তরুণ যুবকের। মনে রাখতে হবে অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি বিনষ্ট হলে বিশ্বমাঝে সকল অর্জন ধূলিসাৎ হবে।

সম্প্রীতি বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সদস্য সচিব ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল ছাড়াও বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, ডাকসুর প্রথম মহিলা ভি. পি মাহফুজা খানম, ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভূইয়া, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সচিব এ কে এম আতিকুর রহমান, সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, উপাচার্য অধ্যাপক শারফুদ্দিন আহম্মেদ, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান, শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য ড. রশিদ আশকারী, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বাবু, মেজর জেনারেল জন গোমেজ, ড. রতন সিদ্দিকী, রেভারেন্ড মার্টিন অধিকারী, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, উপাচার্য অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, জেষ্ঠ সাংবাদিক শরীফ শাহাবুদ্দিন, জেষ্ঠ্য সাংবাদিক শোয়েব চৌধুরী, জেষ্ঠ্য সাংবাদিক আলি হাবিব, উপাচার্য অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর, ডা. উত্তম বড়ুয়া, উপাচার্য ড. মো. নাসিম আখতার, উপাচার্য ড. মাহমুদ হোসেন, অধ্যাপক সাদেকা হালিম, নিরঞ্জন রায় (কানাডা), বদিউজ্জামান খান নাসিম (যুক্তরাষ্ট্র), হাসানুজ্জামান খান, মোস্তফা ফরিদ (যুক্তরাষ্ট্র), লোকমান হোসেন (যুক্তরাজ্য), আজিজ আহম্মেদ (যুক্তরাজ্য), দেলোয়ার হোসেন (সুইডেন), নজরুল ইসলাম (অস্ট্রিয়া), জেষ্ঠ সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস (রাজশাহী), অধ্যাপক এ কে এম শাহনাওয়াজ (জাবি), অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক, অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক আসাদুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক ড. ফরিদুল আলম, অধ্যাপক নূজহাত চৌধুরী, অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, অধ্যাপক অসীম সরকার, অধ্যাপক বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, অধ্যাপক আব্দুল খালেক (সাতক্ষীরা), অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামানিক (রা.বি), অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, সাবেক ছাত্রনেতা মিহির কান্তি ঘোষাল, বিশিষ্ট অভিনয় শিল্পী জয়শ্রী কর জয়া, একুশে পদকপ্রাপ্ত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ এস এম আব্রাহাম লিংকন, অধ্যাপক আ.ব.ম ফারুক, সাবেক যুবনেতা ও আইটি বিশেষজ্ঞ মাহবুব জামান, সাবেক যুবনেতা মো. হিলাল উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত ঘোষ (সাতক্ষীরা), অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ মোল্লা (সাতক্ষীরা), মিলন ব্যানার্জী (বাগেরহাট), লিয়াকত হোসেন (বাগেরহাট) এডভোকেট নরেশ মুখার্জী (বগুড়া), আব্দুস সালাম (নাটোর), এম সাইফুল মাবুদ (ঝিনাইদহ), কবি সাজ্জাদ আনসারী (জামালপুর), হরিপদ (শ্রীমঙ্গল) অধ্যাপক ননী গোপাল সরকার (নেত্রকোনা) সৈয়দা সায়েরা মহসিন (মৌলভিবাজার), হরিপদ রায় (শ্রীমঙ্গল) অধ্যক্ষ গোলাম সারওয়ার (ময়মনসিংহ), বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. সুশান্ত ঘোষ (সাতক্ষীরা), মবিনুল হক মবিন (যশোর), অধ্যাপক এ.কে.এম গিয়াস উদ্দিন (কক্সবাজার) প্রমুখ।