
ঢাকা অফিসঃ ডঃ মুস্তাফিজ স্যার ছোটবেলা থেকেই প্রখর মেধা ও চিন্তার স্বাতন্ত্র্যবোধের জন্য খ্যাত। শিক্ষা জীবনে সবসময়ই ছিলেন শীর্ষ তালিকায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম দিকে থেকেও আরবী বিভাগকে ভর্তির জন্য বেছে নেয়া, পিএইচডি করার জন্য কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পাওয়া ও কর্মজীবনে জাতীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে কাজ করা তাঁর বড় কীর্তি। মাদরাসা’র শিক্ষা শেষ করে স্কুল-কলেজের সার্টিফিকেট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও মাদরাসা শিক্ষার্থী, আলিম-উলামা, পীর-মাশায়েখদের প্রতি তাঁর টান ও দায়বদ্ধতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। স্যারকে প্রথম দেখি ১৯৮৬ সালে। আমি তখন আলিমে পড়ি। ভোলার বোরহানউদ্দিনে একটি মহাসম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন তিঁনি এবং তাঁর শ্বশুর ডক্টর আইয়ুব আলী স্যার। ইবিতে ভিসি হওয়ার পরে স্যারের সাথে কমবেশি কাজ করার সুযোগ হয়েছে। স্যারের সাথে শেষ সাক্ষাৎ তাঁর মৃত্যুর বছরখানেক আগে তাঁর উত্তরার বাসায়। সেদিন তাঁর জীবনের একটি স্মরণীয় ঘটনা বললেন। ১৯৭৪ সালে সরকারের সেক্যুলার শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে তৌহিদী জনতার একটি সমাবেশের প্রধান আকর্ষণ তিঁনি। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ। স্যারের বক্তৃতা শুরু হলে উপস্থিত জনতা উদ্বেলিত হয়ে ওঠে এবং মুহুর্মুহু স্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো সিলেট শহর। ঢাকা থেকে সিলেটের তৎকালীন ডিসি এবং পরবর্তীতে সচিব ইরশাদুল হককে নির্দেশ দেয়া হয় স্যারকে গ্রেফতার করতে। ডিসি ছিলেন স্যারের ইউনির্ভাসিটির ইয়ারমেট ও পূর্ব পরিচিত। তিঁনি স্যারের কাছে চিরকুট পাঠিয়ে ঢাকার খবর জানালেন এবং তাঁকে বক্তৃতা শেষ করতে বললেন। প্রত্যুত্তরে স্যার জানিয়ে দিলেন, তুমি চাইলে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক আমাকে গ্রেফতার করতে পারো। পরে ডিসি সাহেব ঢাকায় জানিয়ে দিলেন ড. মুস্তাফিজকে গ্রেফতার করলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়া প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব হবে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের স্যারকে তাঁর জান্নাতুল ফেরদৌসের মেহমান হিসেবে কবুল করুন।
লেখকঃ প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ অলী উল্যাহ,ডীন,কামিল(স্নাতকোত্তর)শিক্ষা,প্রশিক্ষন ও গবেষণা কেন্দ্র,ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা।





















