ইসির ওয়েবসাইট থেকে ‘নৌকা’ ফেলে দেওয়া হল

কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ অবশেষে সরিয়ে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন ইসি। ১৬ জুলাই বুধবার সকালে ইসির ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা যায়, নিবন্ধন স্থগিত হওয়া দলের নামের পাশে ‘নৌকা’ প্রতীকটি আর নেই।

এর আগে, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক পোস্টে প্রশ্ন তোলেন, “যে দলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে, সেই দলের প্রতীক কীভাবে ইসির ওয়েবসাইটে থাকে?” পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট থেকে প্রতীকটি সরিয়ে নেয়।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর আগে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলমান থাকা অবস্থায় দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তের পরও ইসির ওয়েবসাইটে আওয়ামী লীগের নাম ও প্রতীক ‘নৌকা’ দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা ছিল ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের মতো একটি দল, যার বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অভিযোগে বিচার চলছে—সেই দলের প্রতীক রক্ষণ করা ছিল সরাসরি পক্ষপাতের নামান্তর। এটি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “যে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, নিবন্ধন নেই, তারা কীভাবে এখনো নির্বাচনী প্রতীক ধরে রাখে? এটি কী ইসির কোনো অদৃশ্য চাপে গৃহীত সিদ্ধান্ত ছিল?”

অনেকে বলছেন, এ ঘটনা শুধু ইসির ওয়েবসাইট থেকে প্রতীক সরানোর বিষয় নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের একটি ভুল শুদ্ধ করার চেষ্টা। কারণ, নিষিদ্ধ ও বিচারের মুখোমুখি থাকা একটি দল কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক কাঠামোর অংশ হতে পারে না। এমনকি, যদি নিবন্ধন স্থগিত হয়, তবে প্রতীক থাকা মানেই আইনি ও সাংবিধানিক অনিয়ম।

রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, আইন, গণতন্ত্র ও জনমতকে উপেক্ষা করে বছরের পর বছর স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে বসে ছিল। তারা পালিয়েছে। ইসির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হলেও—এটি দেরিতে নেওয়া এক পদক্ষেপ মাত্র। জনগণের আশা, এটি যেন শুধু কাগুজে শুদ্ধি না হয়ে প্রকৃত রাজনৈতিক শুদ্ধির শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা। ভুয়া নির্বাচন, দমন-পীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হাসিনার বিচারের দিন গুনছেন দেশের মানুষ। হাসিনা পালানোর সাথে সাথে তার দলের নেতাকর্মীরাও পালিয়ে যায়। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন, পরে সরকার আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রমও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এবার স্বৈরাচারী দল আওয়ামীলীগের প্রতিক নৌকাও নির্বাচন কমিশন থেকে সরিয়ে ফেলা হল।