
বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, তাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সৎ, নির্ভীক ও সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। এ ব্যর্থতার কথা তিনি খালেদা জিয়াকেও জানিয়েছেন।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘খালেদা জিয়া : তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ বইয়ের প্রকাশ উৎসবে এ কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র। তিনি অতীতেও বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন। গয়েশ্বর বলেন, খালেদা জিয়ার চারপাশে থাকা লোকগুলোর মধ্যে তাকে সৎ পরামর্শ দেওয়ার মতো কেউ নেই। এ জন্য নেতারা সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছেন। আর এই সুযোগ নিয়ে সরকার প্যারোলে মুক্তির কথা বলছে।
ওয়ান-ইলেভেনের ঘটনাকে সামনে এনে তিনি বলেন, ওই সময়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মী দেখা করতে পারতেন না। তবে সেনা শাসিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেকে তার বাসায় যেতেন। তাকে খাবার সরবরাহ করতেন। আর এই সুযোগে তারা সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতেন। নেতাকর্মী বিচ্ছিন্ন খালেদা জিয়া পরামর্শ করার জন্য তখন কোনো নেতাকে পাননি। অনেকে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে এড়িয়ে গেছেন; কিন্তু পরে এসব নেতার পদোন্নতি হয়েছে। তবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য খালেদা জিয়া এটা করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
দুর্নীতির মামলায় সাজা পেয়ে ১৪ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার মুক্তির দাবিতে বিএনপি সভা-সমাবেশ, গণঅনশন, মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে। এগুলো সরকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন গয়েশ্বর রায়।
বিএনপির নির্বাচিত এমপিদের শপথ নিয়েও কথা বলেন গয়েশ্বর। তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচিতরা বলছেন, জনগণের ইচ্ছায়, সংসদে যেতে তাদের ওপর চাপ আছে। সুতরাং দল বললে তারা প্রস্তুত। তাদের কাপড়- চোপড়ও প্রস্তুত রয়েছে। তবে আমি আশা করেছিলাম, বিএনপির এমপিরা বলবেন যে, খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে আমরা সংসদে যাব, অন্যথায় যাব না। ‘




















