
চট্টগ্রাম মহানগরের দেওয়ানহাট এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া এক প্রাইভেট কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচ তরুণকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ-সিএমপির ডবলমুরিং থানা পুলিশ। ছিনতাই হওয়া সেই প্রাইভেটকারটিও আটকদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সীতাকুণ্ডে সিডিএ রোডের সেতুর পূর্বপাশে মোবিল ফ্যাক্টরির সামনের সড়ক থেকে গাড়িটি উদ্ধারের পাশাপাশি এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরই অপর চার তরুণকে আটক করা হয়। আটক ৫ তরুণ চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বলে পুলিশ জানিয়েছে। সিএমপির-ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহির হোসেন এই খবর নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার হওয়া ৫ তরুণদের মধ্যে রয়েছে- সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরের জাহেদ হোসেন (২১), মো. মহিউদ্দিন (২২), রাব্বি হাসান আলাউদ্দিন (১৮), মো. শাহাবুদ্দিন (২৭) ও মো. সালাউদ্দিন তারেক (২০)।
পুলিশ জানায়, ঢাকা বিমানবন্দর থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে প্রাইভেট কার নিয়ে চালক মো. আসলাম (৪২) কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভাড়ায় যান। সেখানে যাত্রীকে নামিয়ে পরের রাত (১৮ সেপ্টেম্বর) পৌনে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের অলংকার মোড়ে আসেন। সেখানে রাতের খাওয়া শেষ করে ঢাকামুখী যাত্রী গাড়ীতে উঠানোর জন্য ডাকাডাকি করতে থাকেন। এমন সময় জাহেদ, মহিউদ্দিন, রাব্বি, শাহাবুদ্দিন ও মো. সালাউদ্দিন তারেক কৌশলে গাড়ীর কাছে এসে চালকের সাথে দরাদরি করে গাড়ীতে উঠেন।
ওই ৫ যুবক গাড়ীতে উঠার পর চালক ঢাকার উদ্দেশ্যে গাড়ী চালিয়ে ১০-১২ কিলোমিটার যেতেই তারা পেছন থেকে চালককে মারধর করতে করতে গাড়ীর স্টার্ট বন্ধ করে ফেলে। একপর্যায়ে চালক মো. আসলামের মুখে গামছা পেঁচিয়ে পিছনের সিটে নিয়া যায়। এরপর ওই তরুণদের একজন গাড়ী চালায় এবং অন্যারা আসলামকে বেধড়ক মারধর করতে থাকে। প্রায় ৪ ঘন্টা ঘোরাঘুরি করে রাত আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের ডবলমুরিং থানার কদমতলী ফ্লাইওভারের মুখে রাস্তার উপর আসলামকে ফেলে যায়। এরআগে আসলামের কাছ থাকা ৬ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয় তারা।
সিএমপির- ডবলমুরিং থানার পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল সলিমপুরের সিডিএ রোডের সেতুর পূর্ব পাশে মোবিল ফ্যাক্টরির সামনে রাস্তা থেকে ওই ৫ তরুণের একজন জাহেদকে গ্রেফতার করা হয়। সে সময় তার কাছেই কারটি পাওয়া যায়। জাহেদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এরপর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়িত অপর চার তরুণকে দুইটি ছোরাসহ গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেফতার হওয়া সালাউদ্দিন তারেক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে- কয়েকদিন আগে তার হাত কেটে যাওয়ার কারণে ওই ছিনতাইয়ে উপস্থিত ছিলো না। গাড়ী ছিনতাইকালে ভয় দেখানোর কাজে ব্যবহৃত ছোরা ও অন্যান্য জিনিসপত্র দিয়েছে সে। পরবর্তীতে গাড়ীটি বিক্রির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও সে করেছিলো বলে স্বীকার করে।
জহির বলেন, গ্রেফতার হওয়া ৫ তরুণই পেশাদার ছিনতাইকারী দলের সক্রিয় সদস্য। মূলত একেখান, অলংকার এলাকা থেকে গাড়ীতে যাত্রীবেশে উঠে গাড়ী ছিনতাই করে তারা। মহিউদ্দিন হলো এ গ্রুপের প্রধান। চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় তারা জড়িত।





















