একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপনে বিজয় সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। শনিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ বিজয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
সমাবেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন। টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হওয়ার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার অপব্যবহার না করার বিশেষ বার্তা থাকবে তার। সেই সঙ্গে দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা পুনরুল্লেখ করে নেতাকর্মীদের এসব থেকে দূরে থাকাসহ মাদক নির্মূলে একযোগে কাজ করার আহ্বানও জানাবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজয় সমাবেশে সাম্প্রতিক নির্বাচনে সর্বাত্মক বিজয় এনে দেওয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিজয় সমাবেশের সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখার পর দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিশাল বিজয়ের পর সরকার সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক ও দুর্নীতি বিষয়ে কঠোর ও 'জিরো টলারেন্স' অবস্থানে রয়েছে। বিজয় সমাবেশে শেখ হাসিনা এসব থেকে দূরে থাকতে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানাবেন। মাদক নির্মূলে দেশজুড়ে চলমান অভিযানেও সবাইকে একযোগে কাজ করাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করবেন তিনি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তার সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও উঠে আসবে।
এদিকে নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই বিজয় সমাবেশকে ঘিরে বিশাল শোডাউনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। সমাবেশকে মহাসমুদ্রে রূপ দিতে আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ দলের সব সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা এই প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাসহ সারাদেশ থেকে কয়েক লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দল ও সহযোগী সংগঠনগুলো গত কয়েকদিনে দফায় দফায় প্রস্তুতি সভা, যৌথ সভা ও বর্ধিত সভা করেছে। সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের ঢাকা মহানগর এবং পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাসহ এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতাসীন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বিজয়ের পর বিজয় মিছিল কিংবা আনন্দ মিছিল না করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তবে বিজয়ের আনন্দ থেকে নেতাকর্মীদের বঞ্চিত না করতেই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে আজকের বিজয় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। অবশ্য সমাবেশকে ঘিরে জনদুর্ভোগ এড়াতে বরাবরের মতো এবারও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিনেই এই সমাবেশ আয়োজিত হচ্ছে।
আজকের বিজয় সমাবেশকে ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও সংলগ্ন এলাকাকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করে তোলা হয়েছে। দলের হ্যাটট্রিক বিজয়কে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যানের গ্লাস টাওয়ার সংলগ্ন স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ডে একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী ইশতেহারের মলাটের রঙের আদলে সজ্জিত করা হয়েছে।
সমাবেশের মাঠজুড়ে রং-বেরঙের পতাকা ও বেলুন ছাড়াও ছোট-বড় অর্ধশতাধিক নৌকা-বৈঠাসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে সুসজ্জিত করা হয়েছে। রয়েছে তিন মেয়াদের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাফল্যের বিবরণসংবলিত বিলবোর্ডও। উদ্যান সরোবরকেও মনোরম সাজে সাজানো হয়েছে। সমাবেশের কার্যক্রম ও আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর বেশ কয়েকটি ডিজিটাল পর্দা স্থাপন ছাড়াও সংলগ্ন সড়কগুলোতে কয়েকশ' মাইক বসানো হয়েছে।
সমাবেশকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলোকেও রঙ-বেরঙের বেলুন, পতাকা এবং ব্যানার-ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন-সাফল্য এবং বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ তাদের উদ্বৃত্তি সংবলিত বিলবোর্ডও শোভা পাচ্ছে অনেক জায়গায়।
প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য ছাড়াও বিজয় সমাবেশকে আকর্ষণীয় ও বর্ণাঢ্য করতে থাকছে মনোরম সাংস্কৃতিক আয়োজনও। দুপুর আড়াইটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছানোর পর জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমের গানের সঙ্গে সমাবেশ মঞ্চে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার আসন গ্রহণ করার পর এবারের নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সাড়া জাগানো তৌহিদ হোসেনের রচনায় 'জিতবে এবার নৌকা, জয় বাংলা' গানটি পরিবেশিত হবে। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেবেন দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য শেষে জনগণসহ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ নূরুল আমিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: চরফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (সিআইআইটি) রতন প্লাজার তৃতীয় তলা, সদর রোড, চরফ্যাশন, ভোলা।
ঢাকা অফিস: রায়পুরা হাউস (২য় তলা), ৫/এ, আউটার সার্কুলার রোড, পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭ / যোগাযোগ : ০১৭১৬-২৩৭১০৮, ০১৭৬২-৪৪৭২২৮, ইমেইল : chattalanews@gmail.com