কোরবান আলী, ঝিনাইদহ : দুইতলা বাড়ির চারপাশ জুড়ে মৌচাক। প্রতি মুহুর্তে হাজার হাজার মৌমাছির আনাগোনা। মৌমাছিগুলো আপন মনে মধু সংগ্রহ করে ফিরছে চাকে। বাড়ির মালিক বা প্রতিবেশিদের কাউকেই ক্ষতি করে না। গোটা বাড়ি জুড়েই মৌচাকের ছড়াছড়ি। এক বাড়িতেই বসেছে ২৫টি মৌমাছির চাক।
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কৃষক মনিরুদ্দীন কাজীর বাড়িতে এই মৌমাছির বসবাস। দুইতলা বিশিষ্ট বাড়ির উপর নিচের ছাদের কার্নিস জুড়ে সারিবদ্ধ ভাবে মৌচাকগুলো সাজানে। প্রথমে দেখলে মনে হবে কোন নিপুন হাতের কারুকাজ।
কৃষক মনিরুদ্দীন কাজী জানান, তার বাড়িটি তৈরী করার পর থেকে একটি দুইটি করে মৌচাক বসতে থাকে। গত ৫ বছর ধরে ২২ থেকে ২৫টি মধুর চাকে মৌমাছিগুলো বসবাস করছে। বৈশাখ ও জৈষ্ঠের খরতাপে ফুল ও পানি স্বল্পতার কারণে ৮ থেকে ১০টি মৌচাক থাকে। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস আসলে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন ২০ এর অধিক মৌচাক তৈরী হয়।
মনিরুদ্দীনের স্ত্রী মোমেনা খাতুন জানান, নিচতালার ঘরের ঢোকার পথেও মৌমাছিরা বসতে চায়। কিন্তু বাচ্চাদের হুল ফোটাতে পারে এমন আশংকায় আমরা বসতে দিই না। তা নাহলে হয়তো গোটা বাড়িটাই মৌচাকে ভরে যেতো। বাড়ির গৃহবধু রেবেকা খাতুন জানান, তাদের বাড়ির এই মৌচাক দেখতে পথচারীরা ভীড় করে। এতে তাদের বেশ আনন্দও হয়।
মনিরুদ্দীনের ছেলে আব্দুল আজিজ জানান, মধুর চাক ভাঙ্গতে অনেক মধু ব্যবসায়ীরা আসেন। কিন্তু তারা দাম না দিয়ে চাক ভেঙ্গে মধুর অর্ধেক ভাগ দিয়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা বন কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দীন মুকুল বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মৌমাছিদের জায়গা দিতে পারলে ব্যবসায়িকভাবে সফল হতেন কৃষক মনিরুদ্দীন। এ থেকে তিনি খাটি ও আসল মধুও বিক্রি করে লাভবান হতেন।
তিনি আরো বলেন, উৎপাত না থাকায় হয়তো মৌমাছিরা নিরাপদ ভেবেই ওই বাড়িতে চাক বসিয়ে বংশ বিস্তার করছে।
সব খবর/ ঝিনাইদহ/ ১১ মার্চ ২০১৮/ লিটন
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ নূরুল আমিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: চরফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (সিআইআইটি) রতন প্লাজার তৃতীয় তলা, সদর রোড, চরফ্যাশন, ভোলা।
ঢাকা অফিস: রায়পুরা হাউস (২য় তলা), ৫/এ, আউটার সার্কুলার রোড, পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭ / যোগাযোগ : ০১৭১৬-২৩৭১০৮, ০১৭৬২-৪৪৭২২৮, ইমেইল : chattalanews@gmail.com