বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা তরুণ-তরুণীদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপে উঠে এসেছে, বর্তমানে দেশে প্রতি তিনজন স্নাতকের একজন বেকার। আর গেল আট বছরে এই হার দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে চাকরির খোঁজে সময় পার করছেন শারমিন আক্তার তৃষা। সরকারি-বেসরকারি—সব ক্ষেত্রেই আবেদন করলেও এখনো পর্যন্ত মেলেনি কাঙ্ক্ষিত চাকরি। কোথাও সাড়া মিললেও প্রাপ্ত বেতনে জীবনযাত্রার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তৃষা বলেন, “যে বিষয় নিয়ে পড়েছি, সেই বিষয়ে চাকরির সুযোগ সীমিত। আবার অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার দরকার পড়ে, যা আমাদের কাছে নেই। তাই সঠিক চাকরিটা পাচ্ছি না।”
বিবিএসের ২০২৪ সালের চূড়ান্ত শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, বর্তমানে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ২০ হাজার। গত এক বছরে এই সংখ্যা বেড়েছে দেড় লাখেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
বিআইডিএস-এর সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, “গত এক বছরে অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। ফলে বেকারত্ব আরও বেড়েছে বলেই ধারণা করা যায়। এটি আমাদের প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।”
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যে ধরনের স্নাতক বের হচ্ছে, তারা শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ নয়। এই মিসম্যাচের কারণে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অনেকেই দীর্ঘদিন বেকার থাকছেন।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। শিল্প খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম হালনাগাদ করাটা এখন জরুরি।”
অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের কর্মসংস্থান সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনখাতের সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। একইসাথে, শিক্ষাব্যবস্থা ও চাকরির বাজারের মধ্যে ঘাটতি দূর করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ লাখেরও বেশি কমে গেছে। আর দুই বছরের বেশি সময় ধরে কর্মহীন বসে থাকা তরুণদের হার এখন ১৭ শতাংশেরও বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর নীতি গ্রহণ না করা হয়, তবে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ নূরুল আমিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: চরফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (সিআইআইটি) রতন প্লাজার তৃতীয় তলা, সদর রোড, চরফ্যাশন, ভোলা।
ঢাকা অফিস: রায়পুরা হাউস (২য় তলা), ৫/এ, আউটার সার্কুলার রোড, পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭ / যোগাযোগ : ০১৭১৬-২৩৭১০৮, ০১৭৬২-৪৪৭২২৮, ইমেইল : chattalanews@gmail.com