জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তিনটি ধার্য তারিখে আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন না করায় বিচারের এ অংশটি বাদ দিয়েই রায়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য আদালতে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতে এই লিখিত আবেদন করেন এ মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল।
এদিন যুক্তিতর্ক ছাড়া রায় ঘোষণার আবেদন ও বিচারকের প্রতি দুই আসামির অনাস্থার বিষয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন ঠিক করে দিয়েছেন বিচারক আখতারুজ্জামান। মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখেন বিচারক।
যুক্তিতর্ক ছাড়াই রায় ঘোষণার বিষয়ে দুদকের আইনজীবী কাজল আদালতে বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে আসছেন, সব ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, কিন্তু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির চ্যাপ্টার ২০ অনুযায়ী এই মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ না থাকলেও তাদের সে সুযোগ দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিচার বিলম্ব করতেই যুক্তিতর্কে অংশ নিচ্ছে না আসামিপক্ষ। তাই তারা রায়ের দিন ধার্য করতে আদালতের কাছে আবেদন করেছেন। দুদকের এই আইনজীবী বলেন, আদালতের বাইরের ‘চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও পরামর্শে’ আসামিপক্ষ ‘একগুঁয়ে’ আচরণ করছে।
দুদকের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, প্রসিকিউশন বলছে, আমরা ন্যায়বিচার ব্যাহত করছি। অথচ আমরা প্রতি তারিখেই আদালতে আসছি, আদালতে আমাদের আরজি জানাচ্ছি। আমাদের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পরও বারবার আসছি, আমরা আদালতের কাছেই তো আসব।
তিনি বলেন, এই বিচারকের রুলিংয়েই মামলায় যুক্তিতর্ক চলছে। এই মামলার আইনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ নেই। কিন্তু আপনিই তো রুলিং দিয়ে বলেছেন, আপনি যুক্তিতর্ক শুনবেন। যুক্তিতর্ক চলছেও।
বিচারককে উদ্দেশ করে মাসুদ তালুকদার বলেন, যুক্তিতর্ক ছাড়াই রায় ঘোষণার আবেদন গ্রহণ করা হলে বিচার সম্পর্কে জনগণের কাছে ‘ভুল বার্তা’ যেতে পারে। তাড়াহুড়া করে যদি এই বিচার প্রহসনের বিচার হয়ে যায়- তার দায়দায়িত্ব আপনি নিতে পারবেন না।
তিনি বলেন, এই বিচার যদি ‘জাস্টিস হারিড, জাস্টিস বারিডের’ বারিড জাস্টিস হয়ে যায়, তার অংশ আমরা আইনজীবীরা হতে পারি না, আপনাকেও হতে দিতে পারি না।
এদিন আদালতে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া অন্যদিনের মতোই জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির আদেশ চেয়ে আবেদন করেন। পাশাপাশি তার সিনিয়র আইনজীবী আবদুর রেজাক খানের অসুস্থতার কথা জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। আসামি মনিরুল ইসলাম খানের স্থায়ী জামিন বহাল রাখার আবেদন করেন তার আইনজীবী আক্তারুজ্জামান।
অন্যদিকে খালেদার জামিন বাড়ানো ও মনিরুলের জামিন বহালের আবেদন নাকচ করার আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী কাজল। পরে বিচারক খালেদার জামিন বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মনিরুলের জামিন ৩০ তারিখ পর্যন্ত বহাল রাখেন।
এর আগে মঙ্গলবার মামলার শুনানিকালে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে আদালত বলেন, আপনাদের বলা হয়েছে- যুক্তিতর্ক শুরু করার জন্য। এটি কেমন আচরণ! আপনারা কি আদালতে আসেন কেবল জামিন নেয়ার জন্য? আপনারা বিচারকে বিলম্বিত করছেন। মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি না করে তার আইনজীবীরা জামিন ও সময়ের আবেদন করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর থেকে এ মামলায় খালেদা জিয়া একবারও আদালতে হাজির হননি। এর মধ্যে শুধু ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থেকে ফের অনুপস্থিত।
এ জন্য দুদকের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ছাড়াই বিচার চালিয়ে যাওয়ার আবেদন করা হয়। আবেদনের শুনানি শেষে ২০ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার উপস্থিতি ছাড়াই এ মামলার বিচার চলবে বলে আদেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দ্বিতীয় মামলাটিও করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
ওই মামলার অন্য আসামিরা হলেন- খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ নূরুল আমিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: চরফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (সিআইআইটি) রতন প্লাজার তৃতীয় তলা, সদর রোড, চরফ্যাশন, ভোলা।
ঢাকা অফিস: রায়পুরা হাউস (২য় তলা), ৫/এ, আউটার সার্কুলার রোড, পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭ / যোগাযোগ : ০১৭১৬-২৩৭১০৮, ০১৭৬২-৪৪৭২২৮, ইমেইল : chattalanews@gmail.com