প্রাথমিক শিক্ষায় অবকাঠামো নয়, শিক্ষার্থীদের শেখার মানকেই সাফল্যের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) অডিটরিয়ামে খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় আয়োজিত এক কর্মশালা শেষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। কর্মশালায় পিটিআইয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষকরা অংশ নেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে কতগুলো ভবন নির্মাণ ও বরাদ্দ ব্যয় হলো তা দিয়ে সাফল্য পরিমাপ করা হতো। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা কতটা শিখছে, তার ভিত্তিতেই মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য যাচাই করা হবে। শিক্ষক থেকে শুরু করে ডিপিও, ডিডি ও মন্ত্রণালয় পর্যায় পর্যন্ত সবার মূল্যায়ন এই মানদণ্ডেই হবে বলে তিনি জানান।
দেশে প্রতিবছর গড়ে সাত হাজার শিক্ষকের নিয়োগ প্রয়োজন হয় জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বিভিন্ন মামলার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা অনেক পদ এখন শূন্য রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাড়ে ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায় শেষে আগামী অক্টোবর থেকে তাদের নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। নবনিযুক্ত শিক্ষকরা দুই মাসের প্রাথমিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেণিকক্ষে যাবেন, এরপর দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ চলবে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের পিটিআই ও উপজেলা পর্যায়ের ইউপিটিসিগুলো নতুন করে সক্রিয় করা হচ্ছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনার কাজ চলছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতে শিক্ষার মান কমে যাওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়েছেন। শিক্ষার মান বাড়ানো গেলে অভিভাবকরা আবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়মুখী হবেন বলে তিনি মনে করেন।
ক্রীড়াকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির জন্য ক্রীড়াবিষয়ক পাঠ্যবই ২০২৭ সালে এবং সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্তি ২০২৮ সাল থেকে কার্যকর হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাঠ ও প্রশিক্ষক ভাগাভাগির পাশাপাশি নতুন মাঠ স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১৫১টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্পের আওতায় ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে দুধ, ফর্টিফাইড বিস্কুট, সেদ্ধ ডিম, কলা ও বনরুটি দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছর এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রান্না করা তাজা খাবার দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ে পৃথক পাইলট প্রকল্পও শুরু করা হবে।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মতিয়ার রহমান ও প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক (উপবৃত্তি) মাসুদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ নূরুল আমিন, সম্পাদকীয় কার্যালয়: চরফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেশন টেকনোলজি (সিআইআইটি) রতন প্লাজার তৃতীয় তলা, সদর রোড, চরফ্যাশন, ভোলা।
ঢাকা অফিস: রায়পুরা হাউস (২য় তলা), ৫/এ, আউটার সার্কুলার রোড, পশ্চিম মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭ / যোগাযোগ : ০১৭১৬-২৩৭১০৮, ০১৭৬২-৪৪৭২২৮, ইমেইল : chattalanews@gmail.com