সিনেটরকে ‘ডিম মারা’র কারণ জানালো সেই বালক

অস্ট্রেলীয় সিনেটররের মাথায় ডিম নিক্ষেপ করে দুনিয়াজুড়ে আলোচনায় আসা অসি বালক উইল কনোলি ডিম নিক্ষেপের কারণ জানালেন। ওই ঘটনার আট দিন পর প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সামনে আসে উইল। অস্ট্রেলিয়ার সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল টেন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজেকে ‘মানবতাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরা এই অদম্য সাহসী বালক জানান, এক ঘণ্টা ধরে ওই সিনেটরের বক্তব্য শোনার পরই তার মাথায় ডিম ছোড়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে।

উইল কনোলির বক্তব্য, ‘কাউকে শারীরিকভাবে আক্রমণের কোনো কারণ নেই। এটা বুঝতে পারছি যে, আমি যা করেছি তা ঠিক হয়নি। তবে সেই ডিম জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’ নিউজিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি করে ৫০ মুসল্লিকে হত্যার জন্য উল্টো মুসলিমদের দায়ী করেন অস্ট্রেলীয় সিনেটর। সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় অসি ওই বালক তার মাথায় ডিম নিক্ষেপ করেন।

উইল কনোলি বলেন, সিনেটরের বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় মা খুশি হয়েছেন। তবে আমার প্রতিবাদের ধরন তিনি মেনে নিতে পারেননি। ১৭ বছরের এই উইল বলেন, ‘তিনি এভাবে আমার দিকে তেড়ে আসবেন, এটা আমার চিন্তায়ও ছিল না। ভাবছিলাম হেঁটেই সেখান থেকে সরে যাবো। তবে এ ঘটনা যে এতটা আলোড়ন তৈরি করবে, তা ছিল আমার চিন্তার বাইরে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ধারণা ছিল বন্ধুরা এ ঘটনায় মজা করবে। তবে বাস্তবে সবাই মসজিদে হামলার চেয়ে এ ঘটনার প্রতি বেশি মনোযোগী হয়ে উঠলো। প্রকৃতপক্ষে মসজিদে হামলার শিকার ব্যক্তিদের দিকে আমাদের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।’

চ্যানেল টেন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনীতির সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান নিজেকে ‘মানবতাবাদী’ হিসেবে তুলে ধরা এই অদম্য সাহসী বালক।

সিনেটরের মার খেয়ে গ্রেপ্তার হলেও ওই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে দুনিয়াজুড়ে হিরোর তকমা পান উইল কনোলি। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ক্রাউডফান্ডিং সাইট ‘গো ফান্ড মি’র মাধ্যমে দুই হাজার ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ইতোমধ্যেই সেখানে প্রায় ৪২ হাজার ডলার জমা পড়েছে।

গত ১৫ মার্চ নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। পরে এ হত্যাযজ্ঞের জন্য উল্টো মুসলমানদেরই দায়ী করেন অস্ট্রেলীয় সিনেটর ফ্রেসার অ্যানিং। তার দাবি, মুসলিমরা নিউ জিল্যান্ডে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে বলেই সেখানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পরদিন ১৬ মার্চ এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন অ্যানিং। সেখানেই তার মাথায় ডিম ছুড়ে মারে ১৭ বছরের উইল কনোলি।