মোদি উড়বেন তাই আকাশেই ঘুরলো মমতার বিমান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফ্লাইটের কারণে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে আকাশে ঘুরতে হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহনকারী একটি বিমানকে। বুধবার দুপুরে পশ্চিমবঙ্গে আগডোগরা বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে বলে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দিল্লি বা প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে কোনও কিছু জানানো না হলেও কোচবিহারের সভায় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ যাত্রীর হেনস্থা নিয়ে। তার প্রশ্ন, ‘এক জন ভিআইপিকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। কিন্তু, তার জন্য সাধারণ মানুষের কেন অসুবিধা হবে?’ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও যে প্রায় দেড়শো যাত্রী এ দিন বিমানে ছিলেন সকলেরই বাগডোগরা পৌঁছতে দেরি হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিশেষ বিমান বাগডোগরা ছাড়বে দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে। মুখ্যমন্ত্রী ইন্ডিগোর যে বিমানে করে যাচ্ছিলেন সেটি বাগডোগরার আকাশে পৌঁছায় তিনটা নাগাদ। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর বিমান ছেড়ে যাওয়ার ১৭ মিনিট পরে। তবে তখন ইন্ডিগোর পাইলট নামতে চাইলে তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। বিমানটির বাগডোগরায় নামার আনুমানিক সময় ছিল ৩টা ৫ মিনিট। কিন্তু, আকাশে চক্কর কেটে সেটি ৩টা ২৫ মিনিটে নামে। ওই বিমানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন, সেই বার্তা পাইলট বাগডোগরার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-কে দিয়েছিলেন কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।

বাগডোগরা বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বুধবার রাতে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বিমান ছাড়ার সময়ে আরও দুটি বিমান নামার জন্য বাগডোগরার আকাশে চলে এসেছিল। এমনকি, সেই সময়ে আরও দুটি যাত্রিবাহী বিমান বাগডোগরা থেকে ছাড়ার জন্য অপেক্ষা করছিল। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিমান আকাশে উড়ে যাওয়ার পরে আগে চলে আসা দুটি বিমানকে নামিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ দুটি বিমানকে ছাড়া হয়। তারপরে ইন্ডিগোর বিমানকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়।

তার মতে, সেই ফ্লাইটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এটা এটিসি জানলে হয়তো বিমানটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নামিয়ে আনা হতো।
দেশের রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বিমানে বিশেষ ছাড় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। মাঝ আকাশে থাকাকালীন এই তিনটি বিমানের থেকে উপর-নীচে অন্য বিমানের দূরত্ব ন্যুনতম ২ হাজার ফুট রাখা হয়। সাধারণ ভাবে আকাশে দুই বিমানের মাঝে সেই দূরত্ব থাকে ১ হাজার ফুট। তবে, কোনও বিমানবন্দরে নামা-ওঠার ক্ষেত্রে আলাদা কোনও অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম নেই। শুধু দেখা হয়, ওই তিনটি ক্ষেত্রে বিমান নামা ওঠার সময়ে যাতে কোনও দেরি না হয়। এই নিয়ম অসামরিক বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে।