মসজিদ হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন সাবেক রুশ সেনার আত্মহত্যা!

নিউজিল্যান্ডের দু’টি মসজিদে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত আরো এক সন্দেহভাজন হামলাকারীর সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তবে পুলিশি তল্লাশির সময় ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করে। বুধবার ভোররাতে ক্রাইস্টচার্চের কেন্দ্রস্থলে পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদের সময় আত্মহত্যা করে ৫৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।

গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের গুলি চালালে কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন। এ হামলার দায়ে ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন টারান্টকে আটক করেছে পুলিশ। এতদিন ধরে ধারণা করা হচ্ছিলো ওই শ্বেতাঙ্গ যুবক একাই দুই মসজিদে হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু এবার আরো এক সন্দেহভাজনের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ৫৪ বছর বয়সী সাবেক রুশ সেনা ত্রয় দুভোস্কি’র বাসভবনে হানা দেয় পুলিশ। এ সময় ওই ব্যক্তি বাসভবনে না থাকলেও সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় যেগুলোর মধ্যে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল।

মধ্যরাতের পর ক্রাইস্টচার্চের কেন্দ্রস্থলের একটি সড়কে দুভোস্কির সন্ধান পায় পুলিশ এবং তার গাড়িকে আটকে দেয়। এ সময় ওই রুশ সেনা গাড়িতে বসেই পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি করতে থাকে এবং আত্মসমর্পন করতে অস্বীকৃতি জানায়। এক পর্যায়ে তার গাড়ি লক্ষ্য করে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

এরপরও আত্মসমর্পনে রাজি হয়নি দুভোস্কি। পরে বুধবার স্থানীয় সময় ৩টা ৪০ মিনিটে পুলিশ তাকে ছুরিকাঘাতে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। কিন্তু হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। দুভোস্কির গাড়িতে একটি ছুরি ছাড়া আর কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। তবে সে কীভাবে মারা গেলো সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি পুলিশ।

নিউজিল্যান্ডের পুলিশ বলেছে, নিহত ব্যক্তি সমাজের জন্য হুমকি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। এই মুহূর্তে এই ঘটনাকে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলার তদন্তের উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।