ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব থাকবে, তবে প্রয়োজন হলে দৃঢ় অবস্থান নেবে বাংলাদেশ: তথ্য উপদেষ্টা

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হলেও দেশের মর্যাদা ও স্বার্থে প্রয়োজনে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও ক্রিকেট ইস্যু নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মানেই সব বিষয়ে নীরব থাকা নয়। প্রয়োজনে বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গেও চোখে চোখ রেখে কথা বলা যায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে—সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা। ভারত আমাদের বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ, তাই তার সঙ্গে সম্পর্ক সবসময়ই সৌহার্দ্যপূর্ণ রাখতে সরকার আগ্রহী।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো দেশের আচরণে বাংলাদেশের সার্বভৌম মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয় বা নাগরিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে সরকার অবশ্যই প্রতিক্রিয়া জানাবে। এ ধরনের প্রতিক্রিয়া কূটনৈতিক ও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমেই জানানো হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতে প্রতিক্রিয়া দেখানো মানে এই নয় যে, সব ক্ষেত্রেই একই অবস্থান থাকবে।

ক্রিকেট সংক্রান্ত বিষয়ে বিসিবি ও সরকারের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সম্মান ও পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্ব তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ তার অবস্থান স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করবে।

এদিকে নির্বাচন প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল যদি প্রমাণসহ দেখাতে পারে যে কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তা পক্ষপাতিত্ব বা দ্বিমুখী আচরণ করেছেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সরকারের নজরে এলে, সরকারও নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবে।