পাহাড়িদের অস্তিত্ব বিলুপ্তির প্রান্তিক সীমায় পৌঁছে গেছে: সন্তু লারমা

পাহাড়িদের অস্তিত্ব আজ বিলুপ্তির প্রান্তিক সীমায় পৌঁছে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।

তিনি বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠী আজ আমাদের সাথে যে আচরণ চালাচ্ছে, সে আচরণের গ্রহণযোগ্যতা আমাদের কাছে কতটুকু আছে, সে সম্পর্কে আমাদের ভাবতে হবে। এই আচরণের মধ্য দিয়ে জুম্মরা তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলছে। এই আচরণের মধ্যে আছে দমনপীড়ন, নির্যাতন নিপীড়ন, শোষণ-বঞ্চনা। এই আচরণের মধ্যে আছে জুম্ম জনগণের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তাহীন জীবন।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার (এমএন লারমা) ৭৯তম জন্মাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসংহতি সমিতি, গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠী ও এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সন্তু লারমা বলেন, ‘আজ আমরা যদি পার্বত্যাঞ্চলের দিকে তাকাই, চারিদিকে হতাশা-নিরাশা আর হাহাকার দেখি। প্রতিদিন আমরা জমি হারাচ্ছি। প্রতিদিনই আমরা লাঞ্ছিত, নিপীড়িত-অপমানিত হচ্ছি। প্রতিদিনই আমাদের মা-বোনেরা অপমানিত হচ্ছে, লাঞ্ছিত হচ্ছে। এই পাহাড়ের বুকে বিরাজমান যে ঔপনিবেশিক কায়দায় শাসনব্যবস্থা, তা সরকারের বক্তব্যের সাথে যথাযথ নয়, তা নিঃসন্দেহে নিঃদ্বিধায় আমরা বলতে পারি।’

তরুণ সমাজকে অস্তিত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা যাকে আমরা জুম্ম জাতীয়তাবাদের অগ্রদূত হিসেবে মনে করি। যিনি এই ঘুমন্ত জাতিকে জাগ্রত করেছেন, যে জাতি তাঁর অধিকার নিয়ে সচেতন ছিল না। যে জাতি ঘুনেধরা সামন্তবাদী নেতৃত্বের মধ্যে নিমর্জিত থেকে তার সবকিছু হারাতে শুরু করেছিল, সেই জুম্মজাতিকে ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মানবেন্দ্র লারমা যা করেছেন; আজ আমাদের তা নতুন ভাবতে হবে।’

জেএসএস সভাপতি বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে এখন সীমাহীন দুর্গতি নিয়ে প্রতিটি মানুষ আজ অনিশ্চিত জীবন কাটাচ্ছে। কখন কী হয় এ ধরনের দৈনন্দিন জীবন আমরা অনুভব করছি। পার্বত্যাঞ্চলের সর্বত্রই আজ এই বাস্তবতা বিরাজ করছে। আজকের তরুণ সমাজের প্রতি আমার আহ্বান আপনি বাস্তবতাকে মূল্যায়ন করুন।’

এমএন লারমা মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক বিজয় কেতন চাকমার সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, পার্বত্য নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জোনাকি চাকমা, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক প্রমথ কার্বারি।

আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এসময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।