ক্রাইস্টচার্চ ট্র্যাজেডি: ৩ সপ্তাহ পর কথা বললেন কটিয়াদীর লিপি

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় বন্দুকধারীর গুলিতে আহত কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর গৃহবধূ সাজেদা আক্তার লিপি তিন সপ্তাহ পর কথা বলেছেন। শুক্রবার ভোরে তিনি কথা বলতে শুরু করেছেন বলে জানান তার পরিবারের লোকজন। গত ১৫ মার্চ থেকে তিনি ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিউজিল্যান্ড থেকে সাজেদা আক্তার লিপির স্বামী মো. মাসুদ মিয়া তার স্ত্রীর শারীরিক সুস্থতার কথা জানান।

গত ১৫ মার্চ জুমার নামাজ আদায় করতে স্বামী মাসুদ মিয়ার সঙ্গে এক গাড়িতেই ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে গিয়েছিলেন সাজেদা আক্তার লিপি। উগ্রবাদী সন্ত্রাসীর বন্দুক হামলার সময় প্রাণে বেঁচে যান স্বামী মাসুদ মিয়া। কিন্তু ঘাতকের বুলেটে এফোঁড়-ওফোঁড় হন সাজেদা আক্তার লিপি। বন্দুক হামলায় আহতদের মধ্যে সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় ছিলেন বাংলাদেশের এই গৃহবধূ।

সেন্ট্রাল ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে বসবাস করেন স্বামী, ভাশুর, দেবরসহ পরিবারের লোকজন।

মাসুদ মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের দক্ষিণ অষ্টঘড়িয়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। জালাল উদ্দিনের ৩ ছেলে, ১ মেয়ে ও মেয়ের জামাতা নিউজিল্যান্ড প্রবাসী। ৮-৯ বছর আগে বড় ছেলে নজরুল ইসলাম প্রথমে নিউজিল্যান্ড যান। পরবর্তীতে বছর পাঁচেক আগে ছোট দুই ভাই মাসুদ মিয়া, খোকন মিয়া, ছোট বোন ও ভগ্নপতিকে তিনি নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যান। মাসুদ বছর গত ২ বছর পূর্বে স্ত্রী সাজেদা আক্তার লিপিকে তিনি নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যান।

গত ১৫ মার্চ জুমার নামাজ আদায় করতে স্বামী মাসুদ মিয়ার সঙ্গে গাড়িতে করে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে গিয়েছিলেন সাজেদা আক্তার লিপি। মসজিদের সামনে লিপিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গাড়িটি পার্ক করতে যান মাসুদ। ঠিক এই সময়টিতেই ঘটে বন্দুক হামলার ঘটনা।

ভাগ্যক্রমে মাসুদ মিয়া নিরাপদ দূরত্বে চলে যেতে পারলেও, কোনো সুযোগ পাননি লিপি। দৌড়ে আত্মরক্ষা করতে গিয়েও পারেননি। বন্দুকধারী উগ্রবাদীর দুটি বুলেটের মধ্যে পিঠে লাগা একটি বুলেটে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে লিপি লুটিয়ে পড়েন মসজিদের ফ্লোরে।

গোলাগুলির তাণ্ডব শেষে মাসুদ মিয়া হন্যে হয়ে খুঁজেও পাননি লিপিকে। পরে তারা হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, লিপিকে ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। দুদফা অস্ত্রোপচারের পর সাজেদা আক্তার লিপির শরীর থেকে একটি বুলেট বের করেন চিকিৎসকরা। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরডার্নও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেন। এদিকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা লিপির কথা বলতে পারার খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে স্বজনদের মাঝে।