কারচুপি করে জেতার ইচ্ছে আমাদের নেই: প্রধানমন্ত্রী

সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভোট কারচুপি করে নির্বাচনে জেতার কোনো অভিপ্রায় তাঁর সরকারের নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হোক। আর কারচুপি করে নির্বাচনে জেতার কোনো ইচ্ছে আমাদের নেই।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে ৩০৭ জন জেষ্ঠ্য অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
তাঁর সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ খুশি হয়ে আমাদের ভোট দিলেই আমরা ক্ষমতায় থাকব, না হলে নয়।’ ২০০১ সালে নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সেই নির্বাচনে আমরা ভোটের সংখ্যায় হারিনি। অনেক বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও আমরা বেশি ভোট পেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কম আসন দেওয়া হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনের ফলাফল সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্ট পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কোনো আসন দেওয়া হবে আর কোনো কোনো আসন দেওয়া হবে না তা লাল, হলুদ, সবুজ ও নীল কালিতে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছিল। এ থেকে বোঝা যায়, সে বছর নির্বাচন কিভাবে মঞ্চায়িত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এলে তারা আবারও দেশকে ধ্বংস করবে। তিনি বলেন, ‘সুতরাং আমরা খুনি ও যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও আগুন সন্ত্রাসীদের দলকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা ক্ষমতায় এলে আবারও দেশকে ধ্বংস করবে। কিন্তু আমরা ধ্বংসের দিকে যেতে চাই না। আমরা চাই অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে।’
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে না পারলে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শেষ করা হবে না। ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এসব কাজ শেষ করবে না। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের অগ্রগতি এবং জনগণ ভালো থাকুক তা চায় না, কেন তারা তা করবে? ‘কিন্তু আমরা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। আর এ জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা অত্যাবশ্যক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা ২০৭১ সালে আমাদের শতবার্ষিকী উদ্যাপনের পরিকল্পনা করেছি এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ গ্রহণ করেছি। তত দিন আমরা বেঁচে না থাকতে পারি কিন্তু আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উপযুক্ত পরিকল্পনা রেখে যেতে চাই।’