আসুন ওদের ভুলে যাই!

‘কিছু কিছু মানুষ সত্যি খুব অসহায়। তাদের ভালোলাগা, মন্দলাগা, ব্যথা-বেদনাগুলো বলার মতো কেউ থাকে না। তাদের কিছু অব্যক্ত কথা মনের গভীরেই রয়ে যায়, আর কিছু স্মৃতি একসময় পরিণত হয় দীর্ঘশ্বাসে।’ এই উক্তি বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি, নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী ও কুমিল্লার কলেজছাত্রী এবং নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর পরিবারের সদস্যদের জীবন যেন লেখকের এই উক্তির প্রতিচ্ছবি। কোনো আনন্দ এখন আর তাদের স্পর্শ করে না। কোনো দুঃখ তাদের কাতর করে না। অকালে প্রাণ হারানো প্রিয়জনদের কথা ভুলে যেতে চান তারা।

চরম নিষ্ঠুরতার শিকার এই চারজনের স্বজনদের কণ্ঠে ক্ষোভের আগুন। হত্যার বিচার পাবেন না- এটা বিশ্বাস করতেই তারা এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বছরের পর বছর তারা বিচারের যে আশা নিয়ে আছেন, তা আসলে মরীচিকা। তারা এখন তীব্র বেদনার দীর্ঘশ্বাসকে বুকে পাথরচাপা দিতে প্রস্তুত।

সাগর-রুনি, তনু ও ত্বকীর মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে এমন হাতাশাজনক চিত্রই মিলেছে। আলোচিত এসব খুনের মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্ত-সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে মেলেনি কোনো আশার খবর।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সাগর-রুনিকে। বেঁচে যায় তাদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। ওই মর্মন্তুদ ঘটনার প্রায় সাত বছর পার হলেও মামলার অভিযোগপত্র আজও দাখিল করা যায়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ৬১ বার পেছানো হয়েছে। শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে- এমন সম্ভাবনাও নেই।

সাগর-রুনি হত্যার পরের বছর ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে ঘটে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের নিজ বাসার সামনে থেকে নিখোঁজ হয় মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর শাখা চারারগোপ এলাকার খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। দেশব্যাপী ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা দেয়। ছয় বছর পার হলেও ত্বকী হত্যায় কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ মামলায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা সবাই জামিন পেয়েছেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ওলিপুরের পাওয়ার হাউস এলাকায় ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয় স্থানীয় ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর লাশ। প্রায় তিন বছর পার হলেও এ মামলার তদন্তে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই। এরই মধ্যে চারবার বদল হয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

সাগর সরওয়ারের মা সালেহা মনির শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলে কী হবে। শতবার বললেও কোনো ফল পাব না। এতবড় হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা হবে না- কীভাবে মানব? বারবার তদন্ত প্রতিবেদন পেছাচ্ছে। আর কতবার পেছাবে? এখন সবার উচিত ওদের ভুলে যাওয়া। তবুও তো মায়ের মন বলে কথা! কখনও কখনও মনে কিছু আশা ধরে রাখি। আবার মনে হয়, জীবদ্দশায় হয়তো বিচার দেখে যেতে পারব না।’

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মেয়ের খুনি কারা তা এতদিনেও জানতে পারলাম না। কী আর কমু। কেউ এহন আর কোনো খোঁজ রাহে না। সরকারের কাছে একটাই দাবি, এডার একটা সুরাহা হোক। নিজেও অসুস্থ। কারও কাছে কিছু কথা কমু, সেই শক্তিও হারিয়ে ফেলছি।’

ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমরা চাই সরকার দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুক। অপরাধীদের কাঠগড়ায় দেখতে চায় সাধারণ মানুষ। আর কত অপেক্ষা করব! এরই মধ্যে এ মামলায় গ্রেফতার সবাই জামিন পেয়ে গেছে। ‘

তনু হত্যা মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। মামলার অগ্রগতির ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ বলেন, সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে এ মামলার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই। তবে চার্জশিট দাখিলের পর্যায়ে পৌঁছতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

সাগর-রুনি ও ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত করছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-র‌্যাব। তদন্তের ব্যাপারে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সাগর-রুনি ও ত্বকী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ চলছে। আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে। সেই আলোকে তদন্ত এগিয়ে চলছে।

এ ব্যাপারে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি নজর দিতে হবে। দীর্ঘদিন পরও তদন্ত আলোর মুখ না দেখলে জনমনে হতাশা ও আইনের শাসনের প্রতি জনআস্থা ব্যাহত হবে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলসহ বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করা জরুরি।

৪৮ ঘণ্টা থেকে ৭ বছর : সাগর-রুনি হত্যার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন প্রতিশ্রুতি দেন- ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির খুনিদের গ্রেফতার করা হবে।’ সেই হিসাব অনেক আগে চুকেবুকে গেছে। প্রায় সাত বছর পার হতে চলল। সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র ছেলে মেঘ তার কচি হৃদয়ে যে শোকের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে, তার পাল্লা ভারী হচ্ছে। কারা খুনি, কেন খুন সেই রহস্য বের করা যায়নি। এমন বাস্তবতায় সাংবাদিক দম্পতির স্বজনরা বিচারের আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন।

এই দম্পতির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধারের পর রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। চার দিনের মাথায় মামলাটি হস্তান্তর করা হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির কাছে। তদন্তের ৬২ দিনের মাথায় উচ্চ আদালতে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটি র‌্যাবে হস্তান্তর করা হয়। হত্যাকাে র ৭৬ দিনের মাথায় ওই বছরের ২৬ এপ্রিল পুনর্ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয় সাগর-রুনির লাশ। লাশের ভিসেরা আলামতসহ আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এ মামলার তদন্তে এখন পর্যন্ত দুইশ’ ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত ছুরি, বঁটি, ছুরির বাঁট, সাগর-রুনির পরনের কাপড়, সাগরের হাত-পা যে কাপড় দিয়ে বাঁধা হয়েছিল সেই কাপড় ও রুনির পরনের টি-শার্ট পাঠানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ডিএনএ নমুনাও সেখানে পাঠানো হয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আলামতের রাসায়নিক ও ডিনএন নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন এরই মধ্যে তদন্ত সংস্থার কাছে এলেও তা থেকে প্রকৃত আসামি শনাক্তের মতো কার্যকর ক্লু মেলেনি।

বিভিন্ন সময় সাগর-রুনির হত্যার ব্যাপারে নানা ‘তত্ত্ব’ সামনে এলেও তার সুরাহা হয়নি। ‘চোরতত্ত্ব’ ও ভুক্তভোগীদের স্বজনদের ‘সন্দেহে’ রাখার বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছিলেন, ‘তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।’ ডিবির পক্ষ থেকে বলা হয়- ‘মোটিভ’ নিশ্চিত হওয়া গেছে।

২০১২ সালের ৯ অক্টোবর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর ঘোষণা দেন- সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন রফিকুল, বকুল, সাইদ, এনাম ওরফে হুমায়ুন কবীর, মিন্টু ও কামরুল হাসান ওরফে অরুণকে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক নারায়ণ চন্দ্র রায় হত্যাকাে র সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করে ডিবি ও র‌্যাব। এ ছাড়া ওই ঘটনায় সাগর-রুনির পারিবারিক বন্ধু তানভীর ও বাসার নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পালকেও গ্রেফতার দেখানো হয়। দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়েও তাদের কাছ থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ত্বকী হত্যায় গোলকধাঁধায় তদন্ত সংস্থা : ছয় বছর পার হলেও নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র ত্বকী হত্যা মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। আলোচিত এই মামলার চার্জশিট কবে দাখিল সম্ভব হবে- এ প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো উত্তর মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাবের কাছে নেই। এমনকি হত্যার মোটিভ নিয়ে এখনও গোলকধাঁধায় রয়েছে তদন্ত সংস্থা। তিন বছরেও হত্যারহস্য উন্মোচন না হওয়ায় হতাশ নিহতের স্বজনরা। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও বিচার দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখে কর্মসূচি পালন করে আসছে ‘সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চ’।

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ইউসুফ হোসেন ওরফে লিটন, সুলতান শওকত ভ্রমর, তায়েবউদ্দিন ওরফে জ্যাকি, সীমান্ত ও রিফাতকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তাদের মধ্যে সুলতান শওকত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তবে এ ঘটনায় গ্রেফতার সবাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। ভ্রমর জামিন পেয়েই বিদেশে পালিয়েছেন।

জানা গেছে, ত্বকী হত্যার মামলাটি প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন ত্বকীর বাবা। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এ হত্যাকাণ্ডের প্রথম বার্ষিকীতে র?্যাব সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকর্মীদের বলেছিলেন,’ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ১১ জনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কোনো দিন এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’ তবে এখনও চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হয়নি। কার্যত থমকে আছে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া।

আশা দেখছেন না তনুর পরিবার : তনু হত্যার পর প্রায় তিন বছর পার হলেও এ মামলার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। নিহতের পরিবারের সদস্যরা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তদন্ত-সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন- চিকিৎসক, তনুর স্বজন ও সেনাসদস্যসহ এখন পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দেড়শ’ জনকে তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে- এ ধরনের আলামত পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজনদের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করে ধর্ষণের ঘটনায় পাওয়া আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তনুর অন্তর্বাসে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়া যায় ডিএনএ পরীক্ষায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর তনুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব আলামত ব্যবহার করে এখনও সন্দেহাতীতভাবে কোনো আসামি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তনুর লাশ উদ্ধারের পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে তদন্ত শুরু করে থানা পুলিশ। এরপর ডিবির কাছে তদন্তভার ন্যস্ত হয়। চারবার তদন্ত কর্মকর্তা বদলের পর বর্তমানে মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তনুর মৃত্যুর ঘটনার প্রথম থেকে তার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

লাশ উদ্ধারের ১৫ দিন পর দাখিল করা হয়েছিল প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। সেখানে মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে পারেননি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা। তার বিরুদ্ধে আলামত গোপন করার অভিযোগ তোলে তনুর পরিবার। এরপর কবর থেকে মরদেহ তুলে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগে তনুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের আলামত পাওয়া গেছে। তবে সেটি ধর্ষণ ছিল কি-না, তা স্পষ্ট করেননি চিকিৎসকরা। ওই প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ বলতে পারেনি চিকিৎসক দল। প্রথমবারের মতো গোঁজামিল দিয়ে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তোলে তনুর পরিবার। এখন তনুর পরিবার বিচার পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছে। তবে গত বছর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সাভারে একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘তনু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি উচ্চপর্যায়ে তদন্ত চলছে। শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখবে।’ খবর দৈনিক সমকালের।